বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে সামনের দিনগুলোয় এসব সংকট নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ নিয়ে উদ্বেগ স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। ব্যাংক অব আমেরিকার (বিওএফএ) বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মার্কিন বাজেট ঘাটতির প্রভাবে সামনের দিনগুলোয় স্বর্ণের দাম পৌঁছতে পারে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলারে, যা এখনকার চেয়ে প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। খবর মাইনিং ডট কম।
প্রথাগতভাবে যেকোনো ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতায় স্বর্ণকে আপৎকালীন বিনিয়োগ খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের দাম রেকর্ড আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছায়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে তোলে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিওএফএর বিশ্লেষকরা জানান, যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংঘর্ষ সাধারণত স্বর্ণের দামে দীর্ঘমেয়াদি তেমন প্রভাব ফেলে না। ইসরায়েল-ইরানের সংঘর্ষ শুরুর পর মূল্যবান ধাতুটির দামে ২ শতাংশ দরপতন এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল-ইরান সংঘাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্তৃত কর ও ব্যয় বিল থেকে নজর সরিয়ে দিয়েছে, যা কংগ্রেসে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। বিলটি পাস হলে আগামী কয়েক বছরে মার্কিন বাজেট ঘাটতি আরো বেড়ে যাবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঋণ ও ডলারের বিনিময় হার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে।
বিওএফএ আরো জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। তবে তা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যের চালক হওয়ার কথা না। এর বদলে মার্কিন বাজেট আলোচনার গতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যদি ঘাটতি কমানো না যায় তাহলে বাজার অস্থিরতা আরো বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণের চাহিদায়।
ব্যাংকটির বিশ্লেষকরা বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে ট্রেজারি ও ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণের মজুদ বাড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মূল্যবান ধাতুটি মজুদের পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের ১৮ শতাংশের সমান, এক দশক আগে যা ছিল ১৩ শতাংশ।’
বিশ্লেষকরা আরো বলেন, ‘এ পরিসংখ্যান মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। চলমান বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ ও বাজেট ঘাটতির কারণে আরো বেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক মার্কিন ট্রেজারি থেকে সরে এসে স্বর্ণ কিনতে পারে।’
এদিকে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে স্বর্ণ অফিশিয়াল রিজার্ভ সম্পদের তালিকায় ইউরোকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৪ সালের শেষে বৈশ্বিক মোট রিজার্ভ সম্পদে স্বর্ণের হিস্যা ২০ শতাংশ পৌঁছেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সাম্প্রতিক এক জরিপেও দেখা গেছে, বিশ্বের বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার নির্ভরতা কমিয়ে আগামী ১২ মাসে আরো স্বর্ণ ক্রয় অব্যাহত রাখবে।